জ্ঞান ফিরে দেখেন মা, বাবা ও চার ভাইবোনের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০ টির বেশি সীমান্ত চৌকিতে হামলার জেরে সে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে রোহিঙ্গাদের উপর। রাখাইন রাজ্যের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বারুদের গন্ধে। নিহত হয়েছেন অন্তত কয়েকশত মানুষ। অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ছেন বাংলাদেশে। অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকাডুবিতে। আবার অনেকই এসেছেন গুলিবিদ্ধ অবস্থায়।

মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচি কে পুরো বিশ্ব সম্মান করে। তার কাজের স্বীকৃতি সরূপ শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন তিনি। অথচ মানবতার আহব্বানে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত নেই তারও। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ারও বিপক্ষে তিনি । কিছু দিন আগে জাতিসংঘের সাবেক মাহাসচিব কফি আনানের ‘আনান কমিশন’র সুপারিশ ছিল রোহিঙ্গাদের ভিন্ন জাতিসত্তার স্বীকৃতি দেওয়া। অথচ উল্টো তারা যেন এখন আরও বেশিই আক্রমণাত্মক।

সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলাতে গুলিবিদ্ধ অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কয়েকজন। রাখাইন রাজ্যের হোসেন জোহার (২২) নামের এক বাক্তি গত ৩০ আগস্ট গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও আজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের নির্বিচারে মানুষ হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা।

প্রথম আলোকে তিনি জানান, গত মাসের শেষের দিকের এক বিকেলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সরাফউদ্দিনবিল গ্রামটি ঘিরে ফেলেন সেনাসদস্যরা। ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করলে সেনাসদস্যরা নির্বিচারে গুলি চালান। এ সময় বুক ও ডান হাতে গুলি লাগে হোসেন জোহার। অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান ফিরে দেখেন মা, বাবা ও চার ভাইবোনের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে তাঁর পাশে। পরে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

হোসেন জোহারের মত আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের কারও আবার বোমায় ঝলসে গেছে শরীর। তাদের কথায়ও ফুটে ওঠে ভয়াবহ নির্মমতার চিত্র।